পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্ষতি স্বীকার করে উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাওয়ার চিত্র।
এই বাজারে ভারসাম্য অর্জন করতে হলে প্রথমে দুটি শর্ত পালন করতে হয় যেমন-
প্রথম বা প্রয়োজনীয় শর্তঃ ভারসাম্য অবস্থায় ফার্মের প্রান্তিক আয় (MR) ও প্রান্তিক ব্যয়(MC) সমান হয়। অর্থাৎ MR=MC হবে।
দ্বিতীয় বা পর্যাপ্ত শর্তঃ ভারসাম্য বিন্দুতে MC রেখার ঢাল > MR রেখার ঢাল। অর্থাৎ MC রেখা MR কে নিচের দিক থেকে ছেদ করে উপরের দিকে যাবে।
স্বল্পকালে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে AC রেখার অবস্থানের উপর ফার্মের মুনাফা ও ক্ষতি নির্ভর করে। যেমন -
অতিরিক্ত শর্ত AC > P > AVC পালিত হলে, ফার্ম ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাবে।
উপরুক্ত চিত্রের সাপেক্ষে নিচে ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
এখানে,
TR = মোট আয়
TC = মোট ব্যয়
MR = প্রান্তিক আয়
MC = প্রান্তিক ব্যয়
AR = গড় আয়
AC = গড় ব্যয়
AVC = গড় পরিবর্তনীয় ব্যয়
P = দাম
> = বড় মান
< = ছোট মান
Q = উৎপাদনের পরিমাণ
চিত্রে ভূমি অক্ষে উৎপাদনের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে দাম,আয় ও ব্যয় দেখানো হয়েছে। চিত্রে E বিন্দুতে দুটি
ভারসাম্য শর্ত পালন হয়েছে যেমন -
প্রথম শর্ত, প্রান্তিক আয় MR ও প্রান্তিক ব্যয় MC সমান হয়েছে।
দ্বিতীয় শর্ত, MC রেখার ঢাল > MR রেখার ঢাল এবং MC রেখা MR কে নিচের দিক থেকে ছেদ করে উপরের দিকে গিয়েছে। ফলে E বিন্দুতে ভারসাম্য অর্জিত হয়েছে। E হল ভারসাম্য বিন্দু।
স্বল্পকালে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যদি গড় ব্যয় AC > দাম P হয় এবং দাম P > গড় পরিবর্তনীয় ব্যয় AVC অপেক্ষা বেশি হয়, এক্ষেত্রে ফার্ম যদি উৎপাদন না করে তাহলে ফার্মকে FR পরিমাণ স্থির খরচ বহন করতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদন না করলে ক্ষতি হবে FR পরিমাণ। কিন্তু উৎপাদন কাজ চালিয়ে গেলে OP1 দামে ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস পেয়ে ER পরিমাণ আয় আসবে। আর এই ER পরিমাণ আয় টুকু আসলে উৎপাদনকারী
ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাবে।
এখানে, মোট আয় TR = দাম P × উৎপাদনের পরিমাণ Q
মোট ব্যয় TC = গড় ব্যয় AC × উৎপাদনের পরিমাণ Q
মোট আয় TR = OP1 × OM = OP1EM
মোট ব্যয় TC = OP2 × OM = OP2FM
.
. . ক্ষতি = TR - TC
= OP1EM - OP2FM
=P1P2EF
অতএব, স্বল্পকালে ফার্ম টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেক সময় ক্ষতি স্বীকার করে উৎপাদন কাজ চালিয়ে যায় ।