বিশ্ব অর্থনীতিবিদগণ (World Economists), অর্থশাস্ত্রে যাদের অবদান অবিস্মরণীয়।



বিশ্ব অর্থনীতিবিদগণ (World Economists), অর্থশাস্ত্রে যাদের অবদান অবিস্মরণীয়।

অ্যাডাম স্মিথ 

Adam Smith


গ্রেট ব্রিটেনের সুপ্রসিদ্ধ দার্শনিক ও অর্থ তাত্ত্বিক। তাকে অর্থনীতির জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়। কারণ আজকের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত বই ' An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations'। 

লিওন ওয়ালারাস

Leon Walras 


১৯৪৮ সালে সুইডেনের অর্থনীতিবিদ  Leon Walras  তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ " Elements of Pure Economics" ফরাসি ভাষায় "Elements of Economics Politique Pure" গ্রন্থে সাধারণ বা সামগ্রিক ভারসাম্য সর্ব প্রথম ব্যাখ্যা করেন। 

আলফ্রেড মার্শাল 

Alfred Marshall


অর্থবিদ্যার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ। তিনি অনেক নতন ধারণা প্রবর্তন করে অর্থ শাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি প্রথম চাহিদা ও যোগানের মাধ্যমে দাম নির্ধারণের পরিপূর্ণ তত্ত্ব প্রবর্তন করেন। তাঁর বিখ্যাত বই ' Principles of Economics' ১৮৯০ সালে প্রকাশিত হয়। 

জে. বি. সে

J. B. Say


১৮০০ সালের শুরুর দিকে ফরাসী অর্থনীতিবিদ জে. বি. সে বাজার সম্পর্কে একটি গবেষণা কর্ম পরিচালনা করেন।  তাঁর গবেষণার বিষয় বস্ত ছিল বাজারে দুটি পক্ষ যথা ক্রেতা ও বিক্রেতা এবং তাদের আচরণ চাহিদা ও যোগান। সে' র মতে, বাজারে চাহিদার সাথে যোগানের একটি যোগসূত্র আছে এবং তিনি মনে করেন যোগান নিজেই চাহিদার সৃষ্টি করে। সেই কারণে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতিতে বাজার চাহিদা ও বাজার যোগান সমান হয়। যেহেতু, সে' র বিধিতে বাজার সম্পর্কে গবেষণা, আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে তাই সে'র বিধিকে সে'র বাজার বিধি বলা হয়। 

পল অ্যানথনি স্যামুয়েলসন 

Paul Anthony Samuelson


বর্তমান যুগের এক অগ্রগণ্য অর্থতাত্ত্বিক। অর্থশাস্ত্রের বহু কঠিন বিষয় নিয়ে সর্বদা চিন্তামগ্ন থেকেও  স্যামুয়েলসন সর্বপ্রথম শিক্ষার্থীদের জন্য ' Economics ' একটি বই রচনা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার বই টি  ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।   

জে এম কেইন্স

 J. M. Keynes


বিশ শতকের প্রথমার্ধের সর্বাধিক খ্যাতনামা ও প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ জে. এম. কেইন্স। তিনি তার The Genaral Theory of Employment, Interest and Money গ্রন্থের মাধ্যমে আধুনিক সমষ্টিকেন্দ্রিক অর্থবিদ্যার ভিত্তি রচনা করেন এবং সামগ্রিক চাহিদা তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন। 

আতোয়ান অগস্তা কুর্ণো

Antoine Augustin Cournot 


ফরাসি গণিতজ্ঞ, দার্শনিক এবং অর্থনীতিবিদ। গাণিতিক অর্থবিদ্যার ইতিহাসে তিনি সুপরিচিত হয়ে আছেন। তিনিই প্রথম অর্থ শাস্ত্রীর সমস্যার বিশ্লেষণে গণিতের ব্যবহার শুরু করেন। তিনি দাম তত্ত্বের বিশ্লেষণ দেন, যার পদ্ধতিটি একটু ভিন্ন ধরনের।   

আর্থার সেসিল পিগু

Arthur Cecil Pigue


ইংল্যান্ড খ্যতিমান একজন অর্থনীতিবিদ আর্থার সেসিল পিগু। তিনি কল্যাণ অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। এছাড়া তিনি অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার, খণ্ড শ্রমবাজার, মজুরি ইত্যাদি সম্পর্কে বিভিন্নমুখী ধারণা প্রদান করেন। 

সাইমন কুজনেটস 

Simon Kuznets


জন্মসূত্রে রাশিয়ান অর্থবিজ্ঞানী পরে আমেরিকায় চলে এসে জাতীয় আয় ও আর্থিক উন্নতি বিষয়ে বহু গবেষণামূলক নিবন্ধ ও গ্রন্থ প্রকাশ করেন। জাতীয় আয়ের সঙ্গে ভোগ্য দ্রব্যের অনুপাত মোটামুটি একটি স্থির সম্পর্ক বজায় রেখে চলে, এই তত্ত্বটি তিনিই প্রথম দেখান।

আরভিং ফিশার 

Irving Fisher


অ্যামেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থশাস্ত্র ও রাশিবিজ্ঞানী। অর্থনীতিতে তার দুটি প্রধান অবদান হলো মূলধন ও সুদ এবং মুদ্রার পরিমাণ তত্ত্ব। মুদ্রা তত্ত্বের আলোচনায় ফিশার শুধু আমেরিকা নয় সারা বিশ্বেই পথিকৃৎ। 

অমর্ত্য কুমার সেন

Amartya Kukmar Sen


এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী অর্থতাত্ত্বিক অমর্ত্য কুমার সেন বণ্টন তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি সমাজে সম্পদ ও আয় বণ্টন এবং ব্যাপক দারিদ্র্যের সমস্যাগুলিকে তাঁর গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বণ্টন তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেই নোবেল পুরস্কার পান। 

মৌলিক অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ জ্ঞান 
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url