Eonomics 1st paper, hsc, cq question with answer Rajshahi board-2023.

Eonomics 1st paper, hsc, cq question with answer Rajshahi board-2023.

রাজশাহী বোর্ড -২০২৩, অর্থনীতি  ১ম পত্র, সৃজনশীল  প্রশ্ন ও উত্তর।
 
পুষ্পিতা একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য 'X' দেশে গমন করল । সেদেশে নাগরিকদের জীবন খুবই জাঁকজমকপূর্ণ। সেখানে সম্পদের মালিকানা, উৎপাদন, বণ্টন এবং ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা বিদ্যমান। যেখানে তার নিজের দেশে, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগেরও সুযোগ আছে।

ক. সম্পদ কী?
খ. সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি করে'— ব্যাখ্যা কর ।
গ. 'X' দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর। 
ঘ. পুষ্পিতার দেশের সাথে 'X' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনা কর । 

চিত্রগুলো লক্ষ্য করো- 

Eonomics 1st paper, hsc, cq question with answer Rajshahi board-2023.

১ নং চিত্রে একটি স্বর্ণের বার দেখা যাচ্ছে, এটি একটি  সম্পদ। 

২ নং চিত্রে ধনী ও গরীব ব্যক্তি দেখা যাচ্ছে যেখানে শ্রেণি বৈষম্য দেখা দেয়। আর শ্রেণি বৈষম্য ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে দেখা দেয়। 

৩ নং চিত্রে  আমরা দেখতে পেলাম সরকারি ও বেসরকারি পরিচালনা অর্থাৎ  যে অর্থ ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি পরিচালনা থাকে তাকে মিশ্র অর্থনীতি বলে। 

শিখনফলঃ এ কন্টেন্টে  শিক্ষার্থীরা- 

১. সম্পদ কী তা বলতে পারবে;
২. সম্পদের ব্যক্তি মালিকানা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি করে কেন তা ব্যাখ্যা করতে পারবে;
৩. ধনতান্ত্রিক ও মিশ্র অর্থব্যবস্থার মধ্যে  তুলনা করতে পারবে। 

ক. সম্পদ কী?

যেসব বস্তুগত ও অবস্তুগত  দ্রব্যের উপযোগ আছে, যোগান সিমাবদ্ধ, যেগুলোর হস্তান্তরযোগ্যতা বাহ্যিকতা ও বিনিময়য় মূল্য রয়েছে সেগুলোই সম্পদ। 

খ. সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি করে'— ব্যাখ্যা কর ।

ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি মালিকানা বজায় থাকে। এই অর্থ ব্যবস্থায় সম্পদের মালিকা সকলের সমান থাকে না। 
এখানে দেশের সম্পদের বেশির ভাগই কিছু পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তাদের মালিকানায় থাকে বলে শ্রেণি বৈষম্য সৃষ্টি হয়। এ প্রক্রিয়ায় 
একদিকে পুঁজিপতিরা যেমন অধিক ধনসম্পদের মালিক হয়ে উঠে অন্য দিকে দরিদ্র শ্রমিকরা দরিদ্র অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। এর ফলে
সমাজে ধনী ও দরিদ্র শ্রেণির উদ্ভব ঘটে এবং শ্রেণিবৈষম্য দেখা দেয়।  

গ.  'X' দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর। 

'X' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে । এটি হলো এমন একটি অর্থব্যবস্থা যে অর্থব্যবস্থায় প্রতিটি ব্যক্তি উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে । 
ব্যক্তি নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী উপকরণ বিক্রি করে এবং তা থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে । এজন্য এ ব্যবস্থাকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ব্যবস্থাও বলা হয় । এ ব্যবস্থাতে বাজার প্রক্রিয়া (Market Mechanism) বা মূল্য ব্যবস্থার মাধ্যমে (Price Mechanism) অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা হয়। বিভিন্ন পণ্য ও উপকরণের বাজার পরস্পর সম্পর্কিত হয়ে গঠন করে বাজার প্রক্রিয়া । তেমনিভাবে বিভিন্ন পণ্য ও উপকরণের মূল্য পরস্পর সম্পর্কিত হয়ে গঠিত হয় মূল্যব্যবস্থা । সুতরাং যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণগুলোর ব্যক্তি মালিকানা বিদ্যমান এবং সরকারি হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে অবাধ দাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজার পরিচালিত হয় সে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলে ।উদ্দীপকে দেখা যায়, 'X' দেশে নাগরিকদের জীবন খুবই জাঁকজমকপূর্ণ। সেখানে সম্পদের মালিকানা, উৎপাদন, বণ্টন এবং ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা বিদ্যমান। এসবই ধনতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। 
সুতরাং বলা যায়  'X' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থা বিদ্যমান। 

ঘ.  পুষ্পিতার দেশের সাথে 'X' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনা কর । 
 
পুস্পিতার দেশের সাথে 'X' দেশের অর্থব্যবস্থা তুলনা করা হলো- 
 উদ্দীপকে উল্লিখিত X দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং পুষ্পিতার দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। এ দুটি অর্থব্যবস্থার মধ্যে তুলনা করা হলো-
প্রথমত, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন— উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন, ভোগ প্রভৃতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এসব উদ্যোগে সরকারের হস্তক্ষেপ থাকে না । অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, ব্যবসায় বাণিজ্য, বণ্টন ও ভোগসহ অধিকাংশ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগে সংগঠিত ও পরিচালিত হয় ৷
দ্বিতীয়ত, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ বা উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তিমালিকানায় থাকে। ব্যক্তি এগুলো হস্তান্তর ও ভোগ করে থাকে। অপরদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অবাধে ভোগ ও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। পাশাপাশি গণদ্রব্য ও সেবা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে ।
তৃতীয়ত, ধনতন্ত্রে উৎপাদক সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের জন্য উৎপাদন করে। অপরপক্ষে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় বেসরকারি খাতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয়। উদ্দীপকে 'X' দেশে নাগরিকদের জীবন খুবই জাঁকজমকপূর্ণ। সেখানে সম্পদের মালিকানা, উৎপাদন, বণ্টন এবং ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা বিদ্যমান, যা ধনতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য বহন করে ।
অন্যদিকে, পুস্পিতার দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগেরও সুযোগ আছে, যা মিশ্র অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।

সুতরাং বলা যায়, মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাথে ধনতন্ত্রের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

সহায়ক  বইসমুহঃ

দিলারা আরজু, রণজিত কুমার নাথ, নরোত্তম রায়, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, অর্থনীতি ১ম পত্র। 

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, উক্ত উদ্দিপকের আলোকে কনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারো। আমি তোমাদের  প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।





Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url